**অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ধসে পড়ছে কাপাসিয়ার শরীফ মমতাজ উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের নতুন ভবনের বিম: নেপথ্যে ঠিকাদার ও প্রকৌশলী**
গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলায় অবস্থিত শরীফ মমতাজ উদ্দীন আহমেদ ডিগ্রি কলেজের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে শুরুতেই মারাত্মক অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বজনপ্রীতিসহ হরেক রকমের অভিযোগ উঠেছে। চারতলা ভিতবিশিষ্ট ৩টি শ্রেণিকক্ষ, উন্নত স্যানিটারি, পানি সরবরাহ এবং বিদ্যুতায়ন ব্যবস্থার সুবিধাসংবলিত এই ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালীনই বিম বেঁকে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্নীতির অভিযোগ কেবল ঠিকাদারের ওপরই সীমাবদ্ধ নয়, কলেজ পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধেও উঠেছে অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ।
**ঢালাই ভাঙতে বাধ্য হলেন প্রকৌশলীরা**
ভবন নির্মাণের শুরুতেই বিম বেঁকে যাওয়ায় রডের গাঁথুনি এবং সামগ্রিক কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন ওঠে। প্রাথমিক অবস্থায় অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ঘটনাটি স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করেন। এমপি-র কঠোর নির্দেশনার পর নড়েচড়ে বসে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আতিফুর রহমান এবং দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী আফরোজা আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাঁকা হয়ে যাওয়া বিমটি ভেঙে নতুন করে করার নির্দেশ দেন। একই সাথে অনিয়মের সাথে জড়িত থাকায় পুরোনো ঠিকাদারকে পরিবর্তন করে কাজ নতুন ঠিকাদারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
**নিম্নমানের সামগ্রী ও স্বপক্ষে প্রকৌশলীর অযৌক্তিক ব্যাখ্যা**
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজে শুরু থেকেই অতি নিম্নমানের পাথর, বালু ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল। স্থানীয়দের তোপের মুখে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী আফরোজা ভবন ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এই অনিয়মকে “মেজর কোনো সমস্যা নয়” বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি—”বিমের নিচের মাটি দেবে যাওয়ার কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছে।” তবে ধসের ঝুঁকি এড়াতে মাটির পরিবর্তে শক্ত বালু কেন দেওয়া হলো না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে বিষয়টি সঠিক প্রমাণ করার জন্য ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সাফাই গাইতে থাকেন।
**যেসব মূল অভিযোগ উঠে এসেছে:**
* **কলেজ কমিটির স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম:** তদারকির অভাব এবং অসাধু সুবিধার বিনিময়ে মানহীন কাজ মেনে নেওয়ার অভিযোগ।
* **নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহ:** ঠিকাদার ও সরবরাহকারীদের যোগসাজশে বালু, পাথর ও সিমেন্টে কারচুপি।
* **কাঠামোগত ত্রুটি:** চারতলা ভিতের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ না করে তড়িঘড়ি ও নিম্নমানের কাজের ফলে বিম বেঁকে যাওয়া।
* **তদারকি কর্মকর্তাদের উদাসীনতা:** দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের শুরু থেকে চোখ বন্ধ রাখা এবং পরবর্তীতে অসংলগ্ন যুক্তি প্রদান।
চারতলা ভিতের ওপর নির্মিতব্য এই একাডেমিক ভবনটি ভবিষ্যতে শত শত শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে শুরুর ধাপেই এমন পুকুরচুরি এবং অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ক্ষুব্ধ কাপাসিয়াবাসী। তারা অনতিবিলম্বে পুরো নির্মাণকাজের নিরপেক্ষ তদন্তসহ দায়ী ঠিকাদার, কলেজ কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্য এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রকৌশলীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।