গাজীপুরের কাপাসিয়ার বড়বের এলাকায় ভূমি উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর উপজেলা ও গাজীপুর জেলায় কর্মরত কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী।
অভিযান শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্য নিতে এগিয়ে আসেন। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘটনাস্থলে বক্তব্য না দিয়ে নিজ কর্মস্থলে গিয়ে বক্তব্য নেওয়ার আহ্বান জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক এতে সম্মত হননি।
এ অবস্থায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিলে কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন শামীম সাংবাদিকদের বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি কয়েকজন সাংবাদিকের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করে তাঁদের পরিচয় জানতে চান। আর এই পরিচয় জানতে চাওয়াকে কেন্দ্র করেই সাংবাদিকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তী সময়ে বিতর্কে রূপ নেয়।
তবে বেলায়েত হোসেন শামীম একজন সাংবাদিকবান্ধব মানুষ হিসেবে পরিচিত। সাংবাদিকদের যেকোনো সমস্যায় তিনি সব সময় আন্তরিকতার সঙ্গে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। সহকর্মীদের বিপদে নিজের মনে করে এগিয়ে আসার মানসিকতা তাঁর মধ্যে বরাবরই লক্ষণীয়।
আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে, সেদিনের ঘটনার শুরুতে বাংলা নিউজ২৪-এর গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি নাঈম ভাইয়ের আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। বিশেষ করে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি তাঁর আচরণে তাচ্ছিল্যের বিষয়টি লক্ষণীয় ছিল, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পেশাগত পরিচয় ও অভিজ্ঞতার ভিন্নতা থাকলেও প্রত্যেক সাংবাদিকের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান থাকা জরুরি।
দিন শেষে আমরা সবাই একই পেশার মানুষ, সহকর্মী ও ভাই। কাজের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য কিংবা ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। তবে সেই ভুল বোঝাবুঝি যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতাকে নষ্ট না করে। আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই এমন পরিস্থিতির সুন্দর সমাধান সম্ভব।